Skip to content
Tame Academy
Corporate Governance

জার্মানির Two-Tier Board মডেল: Vorstand, Aufsichtsrat ও কর্মী প্রতিনিধিত্ব

জার্মানির দুই-স্তর বোর্ড কাঠামো, Vorstand ও Aufsichtsrat এর ভূমিকা বিভাজন, কর্মী প্রতিনিধিত্ব বা codetermination এবং Volkswagen কেলেঙ্কারির শিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

Md. Mehedi Hasan, LLB, ACS

04 October 2026 · 5 min read · 6 views

Text size:
Share:
জার্মানির Two-Tier Board মডেল: Vorstand, Aufsichtsrat ও কর্মী প্রতিনিধিত্ব
In This Article
  1. Vorstand ও Aufsichtsrat: দুটি পৃথক সংস্থা
  2. Mitbestimmung: কর্মী প্রতিনিধিত্ব বা Codetermination
  3. German Corporate Governance Code (DCGK)
  4. Volkswagen কেলেঙ্কারি: তদারকি পর্ষদ থাকলেও কী ব্যর্থ হতে পারে
  5. উপসংহার

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আমরা দেখেছি এক-স্তর বোর্ড মডেল, যেখানে নির্বাহী ও স্বাধীন পরিচালক একই বোর্ডে বসেন। জার্মানি এই ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পথ বেছে নিয়েছে, একটি দুই-স্তর বা two-tier বোর্ড কাঠামো, যেখানে ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি, এই দুটি কাজ আইনিভাবেই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সংস্থার হাতে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এই মডেল আমাদের কর্পোরেট গভর্নেন্স কী লেখায় আলোচিত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের বিভাজনকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কাঠামোগত রূপ দেয়।

Ad space (reserved)

Vorstand ও Aufsichtsrat: দুটি পৃথক সংস্থা

জার্মানির বড় কোম্পানিগুলোতে (বিশেষ করে Aktiengesellschaft বা AG ধরনের কোম্পানিতে) আইনত দুটি আলাদা বোর্ড থাকে। প্রথমটি Vorstand বা ব্যবস্থাপনা পর্ষদ, যারা দৈনন্দিন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেয়, ঠিক যেমন অন্য দেশের সিইও ও তার নির্বাহী দল করে। দ্বিতীয়টি Aufsichtsrat বা তদারকি পর্ষদ, যার কাজ Vorstand-কে নিয়োগ, বরখেলাপ এবং তাদের সিদ্ধান্তের ওপর তদারকি করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, একই ব্যক্তি কখনোই একসাথে Vorstand এবং Aufsichtsrat এর সদস্য হতে পারেন না, এটি আইনত নিষিদ্ধ। এটি আমাদের আগের লেখায় আলোচিত যুক্তরাষ্ট্রের CEO duality চর্চার থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত, এবং যুক্তরাজ্যের স্বেচ্ছামূলক বিভাজনের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর, কারণ জার্মানিতে এই বিভাজন আইনের অংশ, কোনো কোডের ঐচ্ছিক সুপারিশ নয়।

Aufsichtsrat এর দায়িত্ব মূলত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত।

  • Vorstand সদস্য নিয়োগ ও বরখেলাপ। ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়োগ, মেয়াদ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে অপসারণের ক্ষমতা এককভাবে Aufsichtsrat-এর হাতে।
  • বড় সিদ্ধান্তে অনুমোদন। গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ বা কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে Aufsichtsrat-এর অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
  • আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা। বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের আগে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা।
  • কর্মী প্রতিনিধিত্বের মঞ্চ। এই বোর্ডেই কর্মীদের প্রতিনিধিরা আসন পান, যা পরের অংশে বিস্তারিত আলোচিত।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, তদারকি পর্ষদকে ব্যবস্থাপনা থেকে আইনিভাবে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখার সুবিধা কী?

যখন তদারকিকারী এবং পরিচালনাকারী একই ব্যক্তি বা একই গোষ্ঠী হয়, স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জার্মানির মডেলে এই দুটি ভূমিকা আইনিভাবে এমনভাবে আলাদা রাখা হয়েছে যে কাঠামোগতভাবেই একজন ব্যক্তি নিজের কাজ নিজে তদারকি করার সুযোগ পান না, যা তদারকিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

Mitbestimmung: কর্মী প্রতিনিধিত্ব বা Codetermination

জার্মানির গভর্নেন্স মডেলের সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য সম্ভবত Mitbestimmung বা codetermination ব্যবস্থা। ১৯৭৬ সালের Co-determination Act অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট কর্মীসংখ্যার (সাধারণত দুই হাজারের বেশি কর্মী) বেশি জার্মান কোম্পানিতে Aufsichtsrat-এর অর্ধেক সদস্য হতে হয় কর্মীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। অর্থাৎ শুধু শেয়ারহোল্ডার নয়, কর্মীরাও তদারকি পর্ষদে সরাসরি আসন পান এবং ব্যবস্থাপনা নিয়োগ-বরখেলাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। এটি আমাদের কর্পোরেট গভর্নেন্স কী লেখায় আলোচিত দায়িত্বশীলতা বা responsibility স্তম্ভের একটি চরম ও আইনিভাবে বাধ্যতামূলক রূপ, যেখানে কর্মীদের স্বার্থ শুধু নীতিগত বিবেচনা নয়, বরং বোর্ডরুমের একটি ভোটাধিকার।

A quick story

একটি মাঝারি আকারের জার্মান যান্ত্রিক প্রকৌশল কোম্পানি, যা কর্মীসংখ্যার দিক থেকে codetermination আইনের আওতায় পড়ে, একবার একটি বড় উৎপাদন কেন্দ্র বিদেশে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয়, যার ফলে স্থানীয়ভাবে কয়েকশ কর্মী চাকরি হারাতে পারতেন। Vorstand এই প্রস্তাব Aufsichtsrat-এর কাছে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু কর্মী প্রতিনিধিরা, যারা বোর্ডের অর্ধেক আসনে ছিলেন, এই প্রস্তাবের বিস্তারিত আর্থিক যুক্তি এবং বিকল্প বিশ্লেষণ দাবি করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর একটি সমঝোতা হয়, যেখানে স্থানান্তর ধীরে ধীরে কয়েক বছরে করা হয়, এবং প্রভাবিত কর্মীদের জন্য পুনর্প্রশিক্ষণ ও বিকল্প পদের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এই ঘটনা দেখায়, কর্মী প্রতিনিধিত্ব থাকলে ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে, কিন্তু এটি একই সাথে সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকেও কোম্পানিকে বিরত রাখে। জার্মান অর্থনীতিতে এই ভারসাম্যকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার একটি কারণ বলে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন।

জার্মানির দুই-স্তর বোর্ড কাঠামোয় ক্ষমতার প্রবাহ
শেয়ারহোল্ডার ও কর্মী প্রতিনিধি শেয়ারহোল্ডার ও কর্মী প্রতিনিধি Aufsichtsrat (তদারকি পর্ষদ) Aufsichtsrat (তদারকি পর্ষদ) Vorstand (ব্যবস্থাপনা পর্ষদ) Vorstand (ব্যবস্থাপনা পর্ষদ)
Category Step
শেয়ারহোল্ডার ও কর্মী প্রতিনিধি 1
Aufsichtsrat (তদারকি পর্ষদ) 2
Vorstand (ব্যবস্থাপনা পর্ষদ) 3
Ad space (reserved)

German Corporate Governance Code (DCGK)

আইনি কাঠামোর পাশাপাশি জার্মানির Deutscher Corporate Governance Kodex বা DCGK একটি সম্পূরক নির্দেশনা দেয়, যা মূলত comply-or-explain নীতিতে কাজ করে, অনেকটা আমাদের আগে আলোচিত যুক্তরাজ্যের কোডের মতো। DCGK মূলত Aufsichtsrat-এর স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য (বিশেষ করে নারী সদস্যের ন্যূনতম উপস্থিতি), এবং নির্বাহী বেতন-ভাতার স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্তারিত সুপারিশ দেয়। লক্ষণীয় যে, যেহেতু ভূমিকা বিভাজন ইতিমধ্যে আইনে বাধ্যতামূলক, DCGK মূলত সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে মান নির্ধারণ করে, মৌলিক কাঠামোগত বিভাজনে নয়।

Volkswagen কেলেঙ্কারি: তদারকি পর্ষদ থাকলেও কী ব্যর্থ হতে পারে

২০১৫ সালে প্রকাশ পায়, Volkswagen বছরের পর বছর ধরে তাদের ডিজেল ইঞ্জিনের নির্গমন পরীক্ষায় কারচুপি করা সফটওয়্যার ব্যবহার করে আসছিল, যাতে পরীক্ষাগারে গাড়ি আসলে যে পরিমাণ দূষণ নির্গত করে তার চেয়ে অনেক কম দেখানো যায়। এই ঘটনা দেখায়, একটি আইনিভাবে সুসংগঠিত দুই-স্তর বোর্ড কাঠামো থাকলেও, যদি তদারকি পর্ষদ প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত খুঁটিনাটি গভীরভাবে প্রশ্ন না করে, তাহলে বছরের পর বছর একটি বড় প্রতারণা চলতে পারে। পরবর্তী তদন্তে প্রশ্ন ওঠে, Aufsichtsrat আসলে কতটা গভীরভাবে প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলতে সক্ষম ছিল, যেহেতু প্রযুক্তিগত বিস্তারিত বিষয়ে তাদের দক্ষতা সীমিত ছিল।

Common Mistakes Companies Make

  1. 1

    তদারকি পর্ষদে প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি

    Aufsichtsrat এর সদস্যরা যদি প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞান না রাখেন, তাহলে জটিল প্রকৌশল সিদ্ধান্তে প্রকৃত তদারকি সম্ভব হয় না।

  2. 2

    কাঠামোগত বিভাজনকে সংস্কৃতির বিকল্প মনে করা

    আইনি বিভাজন থাকলেও যদি তদারকি পর্ষদ প্রশ্ন তোলার সংস্কৃতি না গড়ে তোলে, কাঠামো একা জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে পারে না।

  3. 3

    মধ্যস্তরের ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত বোর্ড পর্যায়ে না পৌঁছানো

    অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত মাঝারি স্তরে নেওয়া হয় এবং বোর্ড পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পৌঁছায় না, ফলে তদারকির সুযোগ তৈরির আগেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়ে যায়।

Case Study

কর্মী প্রতিনিধিদের প্রশ্নে পুনর্বিবেচিত অধিগ্রহণ প্রস্তাব

Scenario: এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক কাল্পনিক দৃশ্যকল্প, যেখানে একটি জার্মান শিল্প কোম্পানির Vorstand একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের প্রস্তাব Aufsichtsrat-এ উপস্থাপন করে, যার অর্থায়নের জন্য বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হতো।

Problem: কর্মী প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তোলেন, এই ঋণের চাপ ভবিষ্যতে দেশীয় কারখানায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কিনা, এবং Vorstand-এর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ দাবি করেন।

Solution: Vorstand একটি সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে আসে, যেখানে ঋণের পরিমাণ কমিয়ে একটি যুগ্ম-উদ্যোগ কাঠামো প্রস্তাব করা হয়, যা অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে কম আর্থিক ঝুঁকিতে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারিত হতে পারে।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, আইনি কাঠামো ভালো হলেও সংস্কৃতি দুর্বল হলে কী ঘটতে পারে?

Volkswagen-এর ঘটনা আমাদের শেখায়, কাগজে-কলমে সবচেয়ে কঠোর কাঠামোগত বিভাজনও যথেষ্ট নয়, যদি তদারকি পর্ষদের সদস্যরা প্রকৃতপক্ষে গভীর প্রশ্ন তোলার সংস্কৃতি ও সক্ষমতা না রাখেন। কাঠামো একটি প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে, কিন্তু তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর সজাগ দৃষ্টিই আসল পার্থক্য তৈরি করে।

উপসংহার

জার্মানির দুই-স্তর বোর্ড মডেল এবং কর্মী প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা আমাদের দেখায়, গভর্নেন্স কাঠামো শুধু শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থ রক্ষার জন্যই নয়, বরং বিস্তৃত স্টেকহোল্ডার ভারসাম্যের জন্যও ডিজাইন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারহোল্ডার-কেন্দ্রিক মডেলের সাথে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। পরের লেখায় আমরা যাচ্ছি জাপানে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী বন্ধ কাঠামো থেকে স্বাধীন পরিচালকের দিকে একটি দীর্ঘ সংস্কার যাত্রা চলছে।

FAQ

Vorstand ও Aufsichtsrat এর মূল পার্থক্য কী?

Vorstand হলো ব্যবস্থাপনা পর্ষদ, যারা দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেয়। Aufsichtsrat হলো তদারকি পর্ষদ, যারা Vorstand-কে নিয়োগ, বরখেলাপ এবং তদারকি করে।

একই ব্যক্তি কি Vorstand ও Aufsichtsrat দুটোরই সদস্য হতে পারেন?

না, জার্মান আইনে এটি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ, যা এক-স্তর বোর্ড মডেলের দেশগুলোর থেকে একটি মৌলিক পার্থক্য তৈরি করে।

Codetermination বা Mitbestimmung কাকে বলে?

একটি নির্দিষ্ট কর্মীসংখ্যার বেশি জার্মান কোম্পানিতে Aufsichtsrat এর অর্ধেক সদস্য কর্মীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা।

সব জার্মান কোম্পানিতেই কি codetermination প্রযোজ্য?

না, এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট কর্মীসংখ্যার (সাধারণত দুই হাজারের বেশি কর্মী) কোম্পানির ওপর প্রযোজ্য, ছোট কোম্পানিতে ভিন্ন বা হালকা বিধান থাকতে পারে।

DCGK কী এবং এটি কি বাধ্যতামূলক আইন?

Deutscher Corporate Governance Kodex, একটি comply-or-explain নীতির কোড, যা মূলত আইনের বাইরে সূক্ষ্ম গভর্নেন্স মান নির্ধারণ করে, নিজে বাধ্যতামূলক আইন নয়।

Volkswagen কেলেঙ্কারিতে দুই-স্তর কাঠামো কেন ব্যর্থ হয়েছিল বলে মনে করা হয়?

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন তদারকি পর্ষদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি এবং প্রশ্ন তোলার সংস্কৃতির দুর্বলতা মূল কারণ, কাঠামোগত বিভাজন নিজে যথেষ্ট ছিল না।

জার্মানির মডেল কি শেয়ারহোল্ডার-কেন্দ্রিক না স্টেকহোল্ডার-কেন্দ্রিক?

স্টেকহোল্ডার-কেন্দ্রিক, কারণ কর্মীদের স্বার্থ আইনিভাবেই বোর্ডরুমের ভোটাধিকারে রূপান্তরিত হয়েছে।

বাংলাদেশের মতো দেশে কি দুই-স্তর বোর্ড মডেল গ্রহণ করা সহজ?

এই রূপান্তর জটিল, কারণ এর জন্য শুধু কোড পরিবর্তন নয়, মূল কোম্পানি আইনে কাঠামোগত সংশোধন এবং শ্রম সম্পর্কের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রয়োজন হয়।

কর্মী প্রতিনিধিত্ব থাকলে কি সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি কমে যায়?

অনেক ক্ষেত্রে হ্যাঁ, কারণ বিভিন্ন পক্ষের মতামত শুনে সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লাগে, কিন্তু এটি আকস্মিক ও একতরফা সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও কমায়।

Key Points

  • ●জার্মানিতে Vorstand (ব্যবস্থাপনা পর্ষদ) ও Aufsichtsrat (তদারকি পর্ষদ), দুটি আইনিভাবে পৃথক সংস্থা থাকে, এক ব্যক্তি দুটোর সদস্য হতে পারেন না।
  • ●১৯৭৬ সালের Co-determination Act অনুযায়ী বড় কোম্পানিতে Aufsichtsrat এর অর্ধেক সদস্য কর্মীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হতে হয়।
  • ●DCGK একটি comply-or-explain কোড, যা আইনি বিভাজনের বাইরে সূক্ষ্ম গভর্নেন্স মান নির্ধারণ করে।
  • ●Volkswagen কেলেঙ্কারি দেখায়, কাঠামোগত বিভাজন থাকলেও তদারকি পর্ষদের প্রশ্ন তোলার সংস্কৃতি দুর্বল হলে বড় প্রতারণা ঘটতে পারে।
  • ●জার্মানির মডেল স্টেকহোল্ডার-কেন্দ্রিক, যেখানে কর্মীর স্বার্থ শুধু নীতিগত নয়, বরং আইনি ভোটাধিকারে রূপান্তরিত।
  • ●এক-স্তর (যুক্তরাষ্ট্র/যুক্তরাজ্য) ও দুই-স্তর (জার্মানি) বোর্ড মডেলের মূল পার্থক্য হলো ভূমিকা বিভাজন কোডের সুপারিশ না আইনি বাধ্যবাধকতা।

Related Articles