Skip to content
Tame Academy
Corporate Governance

Company Secretary হওয়ার যোগ্যতা ও ক্যারিয়ার পথ

কোম্পানি সেক্রেটারি কী কাজ করেন, কী যোগ্যতা ও সার্টিফিকেশন লাগে, ক্যারিয়ারের ধাপগুলো কী এবং এই পেশার চাহিদা ও সাধারণ ভুল নিয়ে একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা।

Md. Mehedi Hasan, LLB, ACS

05 October 2026 · 5 min read · 6 views

Text size:
Share:
Company Secretary হওয়ার যোগ্যতা ও ক্যারিয়ার পথ
In This Article
  1. কোম্পানি সেক্রেটারি আসলে কী কাজ করেন
  2. প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সার্টিফিকেশন
  3. ক্যারিয়ার পথ: ধাপে ধাপে কীভাবে এগোবেন
  4. দৈনন্দিন দায়িত্ব ও বোর্ডের সাথে সম্পর্ক
  5. সাধারণ ভুল যা নতুন কোম্পানি সেক্রেটারিরা করেন
  6. বেতন, চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
  7. বাস্তব কেস স্টাডি
  8. উপসংহার

আমাদের সিরিজের প্রথম লেখায় আমরা দেখেছি কীভাবে একজন ভালো স্বাধীন পরিচালক হওয়া যায়। বোর্ডরুমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো কোম্পানি সেক্রেটারি, যিনি প্রশাসনিক ও কমপ্লায়েন্সের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেন। এই লেখায় আমরা দেখব কীভাবে একজন কোম্পানি সেক্রেটারি হওয়া যায়, কী যোগ্যতা লাগে এবং ক্যারিয়ারের ধাপগুলো আসলে কেমন।

Ad space (reserved)

কোম্পানি সেক্রেটারি আসলে কী কাজ করেন

কোম্পানি সেক্রেটারি মূলত বোর্ড এবং কোম্পানির আইনি কমপ্লায়েন্সের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন। তার দায়িত্ব কেবল সভার কার্যবিবরণী লেখা নয়, বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের গভর্নেন্স প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলছে কিনা তা নিশ্চিত করা।

  • বোর্ড সভা পরিচালনা। এজেন্ডা তৈরি, নোটিশ পাঠানো এবং সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ করা।
  • কমপ্লায়েন্স তদারকি। কোম্পানি আইন, বিএসইসি প্রবিধান এবং স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা নিশ্চিত করা।
  • শেয়ারহোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ। বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন এবং শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা।
  • অডিট কমিটি ও এনআরসির সেক্রেটারি। এই দুটি কমিটির সভা আয়োজন এবং রেকর্ড রাখার দায়িত্বও তার।

“এমডি বা সিইও, কোম্পানি সেক্রেটারি, সিএফও এবং হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, এই চারটি পদ চারজন আলাদা ব্যক্তিকে দিতে হবে।”

— BSEC Corporate Governance Code, 2018, Condition No. 3(1)(b)

A quick story

একটি মাঝারি আকারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে একজন হিসাবরক্ষক অনানুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি সেক্রেটারির কাজও সামলাচ্ছিলেন, যদিও তার নির্দিষ্ট কোনো সিএস সার্টিফিকেশন ছিল না। একবার একটি জরুরি বিশেষ সাধারণ সভার নোটিশ আইনি সময়সীমার আগে পাঠানো হয়নি, কারণ তিনি নিয়মটি ঠিকভাবে জানতেন না। সভাটি বাতিল করে পুনরায় আয়োজন করতে হয়, যা কোম্পানির একটি জরুরি মূলধন সংগ্রহের সময়সূচি কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়। এই ঘটনার পর কোম্পানি একজন সনদধারী কোম্পানি সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়, এবং পরের বছরগুলোতে একই ধরনের ভুল আর হয়নি।

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সার্টিফিকেশন

বাংলাদেশে কোম্পানি সেক্রেটারি হওয়ার সবচেয়ে স্বীকৃত পথ হলো ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (ICSB) থেকে চার্টার্ড সেক্রেটারি কোর্স সম্পন্ন করা। এই কোর্সে কোম্পানি আইন, করপোরেট গভর্নেন্স, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কর আইন এবং সিকিউরিটিজ প্রবিধান নিয়ে পড়তে হয়। স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়, তবে বাণিজ্য, আইন বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা থাকলে বিষয়গুলো বুঝতে সুবিধা হয়। কোর্স শেষে পেশাগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সদস্যপদ পেতে হয়, এরপর একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন হয়।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, কেন একজন ভালো হিসাবরক্ষক হয়েও কোম্পানি সেক্রেটারির কাজ ঠিকভাবে করা কঠিন হতে পারে?

কারণ কোম্পানি সেক্রেটারির কাজ মূলত আইনি কমপ্লায়েন্স ও গভর্নেন্স প্রক্রিয়া নিয়ে, যা হিসাবশাস্ত্রের থেকে আলাদা একটি দক্ষতা। কোম্পানি আইনের সময়সীমা, নোটিশের নিয়ম এবং শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট জ্ঞান ছাড়া ছোট ছোট ভুলও বড় আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

ক্যারিয়ার পথ: ধাপে ধাপে কীভাবে এগোবেন

কোম্পানি সেক্রেটারি হওয়ার ক্যারিয়ার পথের ধাপ
স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করা স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করা ICSB-তে চার্টার্ড সেক্রেটারি কোর্সে ভর্তি ICSB-তে চার্টার্ড সেক্রেটারি কোর্সে ভর্তি পেশাগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া পেশাগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন পূর্ণ কোম্পানি সেক্রেটারি পদে নিয়োগ পূর্ণ কোম্পানি সেক্রেটারি পদে নিয়োগ
Category Step
স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করা 1
ICSB-তে চার্টার্ড সেক্রেটারি কোর্সে ভর্তি 2
পেশাগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া 3
সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন 4
পূর্ণ কোম্পানি সেক্রেটারি পদে নিয়োগ 5

প্রথমে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করে ICSB-র চার্টার্ড সেক্রেটারি কোর্সে ভর্তি হতে হয়, যা সাধারণত কয়েকটি স্তরে বিভক্ত এবং সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগে। কোর্স চলাকালীন অনেকেই কোনো কোম্পানির সেক্রেটারিয়াল বিভাগে সহকারী পদে কাজ শুরু করেন, যাতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সদস্যপদ পাওয়ার পর সাধারণত প্রথমে ছোট বা মাঝারি কোম্পানিতে পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া হয়, এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে বড় তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা গ্রুপ অব কোম্পানিজে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

Ad space (reserved)

দৈনন্দিন দায়িত্ব ও বোর্ডের সাথে সম্পর্ক

দৈনন্দিন কাজে একজন কোম্পানি সেক্রেটারি বোর্ডের সবচেয়ে কাছের প্রশাসনিক সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

  • সভার আগে। এজেন্ডা তৈরি, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং সময়মতো সব পরিচালকের কাছে পাঠানো।
  • সভার সময়। আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নির্ভুলভাবে রেকর্ড করা এবং কোরাম নিশ্চিত করা।
  • সভার পরে। মিনিটস খসড়া করে চেয়ারপারসনের অনুমোদন নেওয়া এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি অনুসরণ করা।
  • নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে যোগাযোগ। বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে সময়মতো প্রতিবেদন জমা দেওয়া।

A quick story

একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির কোম্পানি সেক্রেটারি লক্ষ্য করেন, বোর্ড সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার তিন মাস পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ দায়িত্ব নেয়নি। তিনি একটি সহজ ট্র্যাকিং শিট চালু করেন, যেখানে প্রতিটি বোর্ড সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সময়সীমা লেখা থাকে, এবং প্রতিটি সভার শুরুতে আগের সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এই ছোট পরিবর্তনটি বোর্ডের সিদ্ধান্তকে কাগজ থেকে বাস্তবায়নে নিয়ে আসার হার অনেক বাড়িয়ে দেয়।

সাধারণ ভুল যা নতুন কোম্পানি সেক্রেটারিরা করেন

Common Mistakes Companies Make

  1. 1

    মিনিটসে সিদ্ধান্তের বদলে পুরো আলোচনা লিখে ফেলা

    অতিরিক্ত বিস্তারিত আলোচনা লিখলে ভবিষ্যতে বিরোধ হলে তা উল্টো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে, সিদ্ধান্ত ও যুক্তির সারাংশই যথেষ্ট।

  2. 2

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার সময়সীমা শেষ মুহূর্তে মনে রাখা

    বার্ষিক প্রতিবেদন বা ত্রৈমাসিক তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা একটি ক্যালেন্ডারে আগে থেকে না রাখলে শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয় ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

  3. 3

    শুধু প্রশাসনিক কাজ ভেবে গভর্নেন্স প্রশ্নে নিষ্ক্রিয় থাকা

    কোম্পানি সেক্রেটারি শুধু নোটিশ পাঠানোর দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না থেকে, কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি দেখলে সক্রিয়ভাবে বোর্ডকে জানানো উচিত।

  4. 4

    শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য অধিকার যথাসময়ে পূরণ না করা

    বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ বা প্রশ্নের জবাব দেরিতে দিলে শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ও আইনি কমপ্লায়েন্স দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বেতন, চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা এবং কর্পোরেট গভর্নেন্সের প্রতি গুরুত্ব বাড়ার সাথে সাথে যোগ্য কোম্পানি সেক্রেটারির চাহিদাও বাড়ছে। শুরুর দিকে বেতন সাধারণত মাঝারি পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা পদের সমান হলেও, বড় গ্রুপ অব কোম্পানিজ বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ কোম্পানি সেক্রেটারিরা বোর্ড পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপক হিসেবে বিবেচিত হন। কোড-২০১৮ এর কারণে এই পদ এখন বাধ্যতামূলক হওয়ায়, ভবিষ্যতে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাড়ার সাথে সাথে এই পেশার চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা যায়।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, কোম্পানি সেক্রেটারি আর আইনজীবীর কাজের মধ্যে পার্থক্য কী?

একজন আইনজীবী সাধারণত নির্দিষ্ট আইনি সমস্যার পরামর্শ দেন, কিন্তু কোম্পানি সেক্রেটারি প্রতিদিনের গভর্নেন্স প্রক্রিয়ার ভেতরে থেকে কাজ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সাথে নিবিড়ভাবে পরিচিত থাকেন। অনেক সময় জটিল আইনি প্রশ্নে কোম্পানি সেক্রেটারি নিজেই বাইরের আইনজীবীর সাথে সমন্বয় করেন।

বাস্তব কেস স্টাডি

Case Study

দেরিতে নোটিশ পাঠানোর কারণে সভা বাতিলের দৃষ্টান্তমূলক দৃশ্যকল্প

Scenario: এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক কাল্পনিক দৃশ্যকল্প, যেখানে একটি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ আইনি সময়সীমার চেয়ে দুই দিন পরে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পৌঁছায়।

Problem: কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার আপত্তি তোলেন এবং সভার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে, ফলে কোম্পানিকে সভাটি পুনরায় আয়োজন করতে হয়, যা অতিরিক্ত খরচ ও সময় নষ্ট করে।

Solution: কোম্পানি সেক্রেটারি এরপর একটি ডিজিটাল চেকলিস্ট চালু করেন, যেখানে প্রতিটি সভার নোটিশ পাঠানোর তারিখ আগে থেকে নির্ধারিত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিমাইন্ডার আসে, যাতে একই ভুল আর না হয়।

Case Study

সক্রিয় কমপ্লায়েন্স তদারকির দৃষ্টান্তমূলক সাফল্যের দৃশ্যকল্প

Scenario: একটি দৃষ্টান্তমূলক কাল্পনিক দৃশ্যকল্প, যেখানে একজন কোম্পানি সেক্রেটারি লক্ষ্য করেন একটি নতুন সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছে।

Problem: সংশ্লিষ্ট বিভাগ লেনদেনটি জরুরি মনে করে বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, যা কোডের শর্ত ভঙ্গ করত।

Solution: কোম্পানি সেক্রেটারি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চেয়ারপারসনের নজরে আনেন এবং একটি জরুরি বোর্ড অনুমোদন সভা আয়োজন করেন, যার ফলে লেনদেনটি সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়।

উপসংহার

কোম্পানি সেক্রেটারি হওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি কিন্তু স্থিতিশীল ক্যারিয়ার পথ, যেখানে আইনি জ্ঞান, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সততা একসাথে প্রয়োজন হয়। স্বাধীন পরিচালকের মতোই, একজন ভালো কোম্পানি সেক্রেটারি প্রতিষ্ঠানের গভর্নেন্স কাঠামোর একটি অদৃশ্য কিন্তু অপরিহার্য ভিত্তি তৈরি করেন। এই সিরিজের পরের লেখায় আমরা দেখব অডিট কমিটির মিটিং এজেন্ডা কীভাবে তৈরি করবেন, যেখানে কোম্পানি সেক্রেটারির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

FAQ

কোম্পানি সেক্রেটারি হওয়ার জন্য আইন পড়া বাধ্যতামূলক কি?

না, তবে বাণিজ্য, আইন বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে ICSB-র কোর্স বুঝতে সুবিধা হয়।

ICSB কোর্স সম্পন্ন করতে কত সময় লাগে?

সাধারণত পূর্ণকালীন অধ্যবসায়ে তিন থেকে চার বছর লাগে, যদিও এটি ব্যক্তির অগ্রগতির গতির ওপর নির্ভর করে।

একজন কোম্পানি সেক্রেটারি কি একাধিক কোম্পানিতে কাজ করতে পারেন?

ছোট অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও, কোড-২০১৮ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে এই পদ পূর্ণকালীন এবং অন্য কোনো নির্বাহী পদের সাথে একত্রে রাখা যায় না।

কোম্পানি সেক্রেটারি কি বোর্ড মিটিংয়ে ভোট দিতে পারেন?

না, তিনি পরিচালক নন, বরং সভা পরিচালনা ও রেকর্ড রাখার দায়িত্বে থাকেন, ভোটাধিকার কেবল পরিচালকদের।

ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য কোম্পানি সেক্রেটারি রাখা বাধ্যতামূলক কি?

অতালিকাভুক্ত ছোট কোম্পানির জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা সীমিত, কিন্তু কোম্পানি আইনের মৌলিক কমপ্লায়েন্সের জন্য এই দক্ষতা থাকা সবসময় উপকারী।

কোম্পানি সেক্রেটারি আর কর্পোরেট গভর্নেন্স অফিসারের পার্থক্য কী?

অনেক প্রতিষ্ঠানে এই দুটি ভূমিকা একই ব্যক্তির হাতে থাকে, তবে বড় প্রতিষ্ঠানে গভর্নেন্স অফিসার আলাদাভাবে নীতিমালা তৈরিতে বেশি মনোযোগ দেন।

বিদেশে কোম্পানি সেক্রেটারি সার্টিফিকেশন বাংলাদেশে স্বীকৃত কি?

কিছু আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন পারস্পরিক স্বীকৃতির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে বাংলাদেশে চাকরির জন্য সাধারণত ICSB-র সদস্যপদই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

কোম্পানি সেক্রেটারির কাজে প্রযুক্তির ভূমিকা কতটা বাড়ছে?

বোর্ড পোর্টাল সফটওয়্যার, ডিজিটাল মিনিটস এবং স্বয়ংক্রিয় রিমাইন্ডার ব্যবস্থা এখন অনেক কোম্পানিতে দৈনন্দিন কাজের অংশ হয়ে উঠছে।

একজন কোম্পানি সেক্রেটারি কি বরখাস্ত হতে পারেন?

হ্যাঁ, তবে কোড অনুযায়ী বোর্ডের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন, যাতে এই পদে অস্থিরতা তৈরি না হয়।

নতুন স্নাতকদের জন্য এই ক্যারিয়ার কতটা বাস্তবসম্মত?

সহকারী সেক্রেটারিয়াল পদে কাজ শুরু করে ধাপে ধাপে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে এটি একটি বাস্তবসম্মত ও স্থিতিশীল ক্যারিয়ার পথ হতে পারে।

Key Points

  • ●কোম্পানি সেক্রেটারি বোর্ড ও কোম্পানির আইনি কমপ্লায়েন্সের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন।
  • ●সবচেয়ে স্বীকৃত পথ হলো ICSB-র চার্টার্ড সেক্রেটারি কোর্স সম্পন্ন করে সদস্যপদ নেওয়া।
  • ●ক্যারিয়ার পথ সাধারণত সহকারী পদ থেকে শুরু হয়ে অভিজ্ঞতার সাথে পূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছায়।
  • ●মিনিটসে অতিরিক্ত বিস্তারিত লেখা এবং নিয়ন্ত্রক সময়সীমা দেরিতে মনে রাখা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
  • ●কোড-২০১৮ অনুযায়ী এই পদ অন্য কোনো নির্বাহী পদের সাথে একত্রে রাখা যায় না।
  • ●তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাড়ার সাথে সাথে যোগ্য কোম্পানি সেক্রেটারির চাহিদাও বাড়ছে।

Related Articles