Skip to content
Tame Academy
Corporate Governance

ACGA র‍্যাংকিং-এ বাংলাদেশ

ACGA কী, এর CG Watch র‍্যাংকিং কোন কোন বাজার নিয়ে কাজ করে, বাংলাদেশ এই তালিকায় আছে কিনা, এবং না থাকলে এর বাস্তব অর্থ কী তা নিয়ে একটি সৎ আলোচনা।

Md. Mehedi Hasan, LLB, ACS

04 October 2026 · 4 min read · 7 views

Text size:
Share:
ACGA র‍্যাংকিং-এ বাংলাদেশ
In This Article
  1. ACGA কী এবং CG Watch কী
  2. CG Watch এ কোন কোন বাজার অন্তর্ভুক্ত
  3. বাংলাদেশ কি এই তালিকায় আছে
  4. বাংলাদেশের জন্য বিকল্প মূল্যায়ন কী আছে
  5. বাস্তব কেস স্টাডি
  6. উপসংহার

এশিয়া অঞ্চলের কর্পোরেট গভর্নেন্স নিয়ে আলোচনায় একটি নাম প্রায়ই উঠে আসে, ACGA, পূর্ণ নাম Asian Corporate Governance Association। এই লেখায় আমরা একটি সৎ এবং সরাসরি প্রশ্নের উত্তর খুঁজব, ACGA এর বিখ্যাত র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আসলে কী। উত্তরটি অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই বাস্তবতা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়।

Ad space (reserved)

ACGA কী এবং CG Watch কী

ACGA হংকং ভিত্তিক একটি স্বাধীন, অলাভজনক সংস্থা, যার সদস্যদের মধ্যে আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং পেশাজীবী সংস্থা। এই সংস্থাটি নিয়মিত বিরতিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার নাম CG Watch, যেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারের কর্পোরেট গভর্নেন্স নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তব প্রয়োগের মান তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

CG Watch এ কোন কোন বাজার অন্তর্ভুক্ত

CG Watch ঐতিহাসিকভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের তুলনামূলক বড় ও অধিক তরল শেয়ারবাজার নিয়ে কাজ করে, যেমন অস্ট্রেলিয়া, চীন, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং থাইল্যান্ড। এই নির্বাচনের পেছনে মূল বিবেচ্য বিষয় মূলত বাজারের আকার, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা তথ্যের প্রাপ্যতা।

বাংলাদেশ কি এই তালিকায় আছে

সরাসরি এবং সৎভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ বর্তমানে ACGA এর CG Watch র‍্যাংকিংয়ের নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত বাজারের তালিকায় নেই। এটি কোনো নেতিবাচক রায় নয়, বরং এটি প্রতিফলিত করে যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এখনো সেই নির্দিষ্ট আকার, তরলতা বা বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের মাত্রায় পৌঁছায়নি, যা এই নির্দিষ্ট তুলনামূলক গবেষণার আওতায় আসার পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো আরও কিছু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারও একই কারণে এই নিয়মিত তালিকার বাইরে থাকে।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একটি দেশ কোনো আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে না থাকার মানে কি সেই দেশের গভর্নেন্স চর্চা খারাপ?

না, একেবারেই নয়। র‍্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্তি মূলত নির্ভর করে বাজারের আকার ও গবেষণা সম্পদের বরাদ্দের ওপর, গভর্নেন্সের প্রকৃত মান নয়। একটি দেশ র‍্যাংকিংয়ে না থাকলেও তার নিজস্ব কোড, যেমন বাংলাদেশের কোড-২০১৮, একই আন্তর্জাতিক নীতিমালার ভিত্তিতে তৈরি হতে পারে এবং কার্যকরভাবে প্রয়োগ হতে পারে।

একটি বাজার কীভাবে এই ধরনের আঞ্চলিক তুলনামূলক গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হয়
বাজার আকার ও তরলতা বৃদ্ধি বাজার আকার ও তরলতা বৃদ্ধি বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা তথ্যের প্রাপ্যতা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা তথ্যের প্রাপ্যতা আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থার অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থার অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত
Category Step
বাজার আকার ও তরলতা বৃদ্ধি 1
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি 2
দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা তথ্যের প্রাপ্যতা 3
আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থার অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত 4
Ad space (reserved)

বাংলাদেশের জন্য বিকল্প মূল্যায়ন কী আছে

CG Watch এর মতো নিয়মিত আঞ্চলিক র‍্যাংকিংয়ে না থাকলেও বাংলাদেশের গভর্নেন্স কাঠামো সম্পূর্ণ মূল্যায়নের বাইরে নয়। আমাদের আগের লেখায় আলোচিত বিশ্বব্যাংকের ROSC কর্মসূচি বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি, যা একই G20/OECD নীতিমালার ভিত্তিতে দেশের কাঠামো মূল্যায়ন করে। এছাড়া IFC এর মতো উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা সরাসরি কোম্পানি-পর্যায়ে মূল্যায়ন চালিয়ে যায়, যা বাজার-স্তরের র‍্যাংকিংয়ের অনুপস্থিতি অনেকটাই পুষিয়ে দেয়।

A quick story

একটি আঞ্চলিক বিনিয়োগ সম্মেলনে একজন বাংলাদেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রতিনিধি একজন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রশ্ন পান, "আপনার বাজার তো CG Watch র‍্যাংকিংয়ে নেই, তাহলে আমরা আপনার গভর্নেন্স মান কীভাবে বুঝব?" প্রতিনিধি এই প্রশ্নের উত্তরে বিএসইসি কোড-২০১৮ এর কাঠামো, অ্যানেক্সার-সি এর ১৬৬টি পরিপালন শর্ত এবং তাদের নিজস্ব কোম্পানির স্বাধীন পরিচালক ও অডিট কমিটির সক্রিয়তার সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেন। বিনিয়োগকারী স্বীকার করেন, একটি বাজার-স্তরের র‍্যাংকিং না থাকলেও একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব তথ্য ও কাঠামো পর্যালোচনা করেই তারা সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

এই ঘটনাটি দেখায়, বাজার-স্তরের র‍্যাংকিংয়ের অনুপস্থিতি একটি কোম্পানির জন্য অজুহাত নয়, বরং তাকে নিজের গভর্নেন্স তথ্য আরও স্পষ্টভাবে, স্বনির্ভরভাবে উপস্থাপন করার একটি বাড়তি দায়িত্ব তৈরি করে।

Common Mistakes Companies Make

  1. 1

    র‍্যাংকিংয়ে না থাকাকে দায়মুক্তি মনে করা

    আন্তর্জাতিক তুলনামূলক র‍্যাংকিংয়ে না থাকার মানে এই নয় যে গভর্নেন্স মান যাচাইয়ের কোনো চাপ নেই, বরং এটি কোম্পানিগুলোর ওপর নিজস্বভাবে তথ্য প্রকাশের বাড়তি দায়িত্ব তৈরি করে।

  2. 2

    র‍্যাংকিংয়ের অনুপস্থিতিকে নেতিবাচক রায় মনে করা

    অন্তর্ভুক্তি মূলত বাজার আকার ও গবেষণা সম্পদের ওপর নির্ভর করে, গভর্নেন্সের গুণমানের সরাসরি প্রতিফলন নয়।

  3. 3

    বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির (যেমন ROSC) কথা না জানা

    বাংলাদেশের গভর্নেন্স মান সম্পূর্ণ মূল্যায়নের বাইরে নয়, ভিন্ন মঞ্চে এর মূল্যায়ন চলমান থাকে।

  4. 4

    আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর কাছে প্রস্তুত তথ্য না রাখা

    বাজার-স্তরের র‍্যাংকিং না থাকলে কোম্পানি-স্তরের তথ্যের গুণমান আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে।

বাস্তব কেস স্টাডি

Case Study

র‍্যাংকিং না থাকার সুযোগে স্বনির্ভর স্বচ্ছতা

Scenario: এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক কাল্পনিক দৃশ্যকল্প, যেখানে একটি বাংলাদেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানি বুঝতে পারে তাদের বাজার কোনো প্রধান আঞ্চলিক গভর্নেন্স র‍্যাংকিংয়ের অংশ নয়।

Problem: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি সহজ তৃতীয়-পক্ষীয় রেফারেন্স পয়েন্ট না থাকায় কোম্পানিকে নিজেদের গভর্নেন্স মান আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয়।

Solution: কোম্পানি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে একটি স্বতন্ত্র, বিস্তারিত গভর্নেন্স বিভাগ যুক্ত করে, যেখানে কোড-২০১৮ পরিপালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নীতিমালার সাথে তুলনামূলক একটি সারসংক্ষেপও দেওয়া হয়, যা বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মূল্যায়নে সহায়তা করে।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার যদি আকারে ও তরলতায় বড় হয়, তাহলে কি CG Watch এর মতো র‍্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা বাড়বে?

যুক্তিসঙ্গতভাবে হ্যাঁ, কারণ এই ধরনের আঞ্চলিক গবেষণার অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত মূলত বাজারের আকার, তরলতা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর আগ্রহের ওপর নির্ভর করে, যা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে।

উপসংহার

বাংলাদেশ এখনো ACGA এর CG Watch র‍্যাংকিংয়ের নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত বাজারের তালিকায় নেই, এবং এই বাস্তবতা স্বীকার করাই সঠিক তথ্য দিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রথম পদক্ষেপ। ISO 37000: Governance of Organizations নিয়ে আমাদের পরের লেখায় আমরা দেখব একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের, বাজার-নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক গভর্নেন্স নির্দেশিকা কেমন দেখায়। কর্পোরেট গভর্নেন্স কী তা নিয়ে বিস্তারিত পড়তে চাইলে আমাদের গভর্নেন্স বিভাগে ঘুরে আসতে পারেন।

FAQ

ACGA এর পূর্ণ নাম কী?

Asian Corporate Governance Association, হংকং ভিত্তিক একটি স্বাধীন অলাভজনক সংস্থা।

CG Watch কী?

ACGA এর একটি নিয়মিত প্রতিবেদন, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারের কর্পোরেট গভর্নেন্স নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োগের মান তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন করে।

বাংলাদেশ কি CG Watch এ অন্তর্ভুক্ত?

না, বাংলাদেশ বর্তমানে এই নিয়মিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।

অন্তর্ভুক্ত না থাকার মানে কি বাংলাদেশের গভর্নেন্স মান খারাপ?

না, অন্তর্ভুক্তি মূলত বাজারের আকার, তরলতা ও গবেষণা সম্পদের বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে, গভর্নেন্সের প্রকৃত গুণমানের সরাসরি পরিমাপ নয়।

বাংলাদেশের জন্য কোনো বিকল্প আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন আছে কি?

হ্যাঁ, বিশ্বব্যাংকের ROSC কর্মসূচি এবং IFC এর কোম্পানি-পর্যায়ের মূল্যায়ন পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প।

কোন কোন বাজার সাধারণত CG Watch এ অন্তর্ভুক্ত থাকে?

ঐতিহাসিকভাবে অস্ট্রেলিয়া, চীন, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডের মতো তুলনামূলক বড় বাজার অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কি এই র‍্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?

বাজারের আকার, তরলতা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে ভবিষ্যতে এই সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, তবে এটি নির্ভর করে আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর।

একটি কোম্পানি কীভাবে র‍্যাংকিংয়ের অনুপস্থিতি পুষিয়ে দিতে পারে?

বার্ষিক প্রতিবেদনে নিজস্ব গভর্নেন্স তথ্য আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার সাথে তুলনামূলক প্রসঙ্গ যুক্ত করে।

Key Points

  • ●ACGA এর CG Watch র‍্যাংকিং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নির্দিষ্ট কয়েকটি তুলনামূলক বড় বাজার নিয়ে কাজ করে।
  • ●বাংলাদেশ বর্তমানে এই নিয়মিত তালিকার অন্তর্ভুক্ত বাজারের মধ্যে নেই।
  • ●অন্তর্ভুক্তি মূলত বাজারের আকার, তরলতা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর আগ্রহের ওপর নির্ভর করে, গভর্নেন্সের গুণমানের সরাসরি পরিমাপ নয়।
  • ●বিশ্বব্যাংকের ROSC ও IFC এর কোম্পানি-পর্যায়ের মূল্যায়ন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি।
  • ●বাজার-স্তরের র‍্যাংকিংয়ের অনুপস্থিতি কোম্পানিগুলোর ওপর নিজস্বভাবে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের বাড়তি দায়িত্ব তৈরি করে।
  • ●সৎ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপনই একটি কোম্পানির জন্য আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য পথ, র‍্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্তি থাকুক বা না থাকুক।

Related Articles